তারেক’কে ফোন উচ্ছ্বসিত মোদি

দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ১৩ ফেব্রুয়ারী: গণতান্ত্রিক, সুষ্ঠু, অবাধ এবং বিতর্কহীন নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হবে তার সঙ্গেই ভারত গড়ে তুলবে সুষ্ঠু স্বাভাবিক কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক, বৈদেশিক সম্পর্ক। এই অবস্থানের কথা ভারত সরকার বারংবার জানিয়ে দিয়েছিল ২০২৪ সালে ৫ আগস্টের পর থেকে। আর সেই মর্মে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকারকেও একাধিকবার ভারত জানিয়েছে। দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক, এই দাবিও ভারত করেছিল। ভারতের অবস্থান যে অপরিবর্তনশীল ও স্থিতিশীল, তার প্রমাণ হল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তায়। বৃহস্পতিবার নিবাচনের পর ভোট গণনা শুরু হয়। মধ্যরাত থেকেই ভোটে জয় পরাজয়ের প্রবণতা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। শুক্রবার সকালে যখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বিএনপি এবং অবশেষে বাংলাদেশে এক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে গঠিত সরকার হতে চলেছে, তখনই প্রধানমন্ত্রী সোশাল মিডিয়ায় বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেন বাংলাদেশের ভোটে জয়ী বিএনপিকে ভারতের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। এখানেই শেষ নয়। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে মোদি ফোনেও কথা বলে সরাসরি তাকে অভিনন্দিত করেন। বলেন, বাংলাদেশের মানুষের উচ্চাশা ও উন্নতির রূপায়ণের জন্য সবরকম ও শুভকামনা থাকছে ভারতের। ভারত ও বাংলাদেশে দুই প্রতিবেশী দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সাদৃশ্য অনেককালের। তাই এই দুই দেশবাসীর উন্নতি, অগ্রগতি, শান্তির লক্ষ্য স্থাপনে ভারত সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশের নব নির্বাচিত সরকারে সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন এবং সমর্থন করবে ভারত, এই বার্তা স্পষ্ট দিয়ে বস্তুত মোদি ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কের থমকে যাওয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আবার চালু করাই সরাসরি ইঙ্গিত দিলেন। প্রসঙ্গত আওয়ামি লীগহীন নির্বাচনে বিএনপি এবং জামাত উভয় জোটই প্রত্যাশার থেকে বেশি আসন পেয়েছে। প্রধান যে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সেটি হল, আওয়ামি লীগের বিপুল সংখ্যক ভোটার কোন্ জোটকে ভোট দিল? আওয়ামি লীগের একাংশের সমর্থন ছাড়া কি বিএনপির এভাবে ২০০ আসন ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল? আবার অন্যদিকে উদ্বেগের স্থান হল, জামায়তে ইসলাম যে জেলাগুলিতে সব থেকে বেশি আসন দখল করেছে, তার মধ্যে সিংহভাগ ভারতের সীমান্ত জেলা। অর্থাৎ সীমান্তবর্তী এলাকায় জামাতের শক্তি বেড়েছে। যা ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে যথেষ্ট চিন্তার বার্তা। আর তাই সুরক্ষা ও সীমান্ত প্রহরা নিয়ে দ্রুত দুই দেশের মধ্যে আবার যাতে সমন্বয় গড়ে তোলা সম্ভব হয়, তাই নতুন বিএনপি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে ভারত। বকেয়া ও থমকে যাওয়া ইস্যুগুলি নিয়ে পুনরায় শুরু হবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে। সেই আভাস প্রথমেই দিয়ে রাখলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। প্রশ্ন একটাই। শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ কী? তার পুত্রকন্যাদের আগ্রহ নেই এখনও প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসার। আর আওয়ামি লীগের প্রথম সারির নেতৃত্ব হয় ভারত অথবা বিদেশের বিভিন্ন শহরে নির্বাসিত জীবনে। তাহলে কি আওয়ামি লিগের আর ফেরা সম্ভব নয় বাংলাদেশের রাজনীতির পরিসরে? নাকি অতীতের মতো আবার পট পরিবর্তন হবে কোনও এক সময়?

এদিকে কলকাতা অফিস জানাচ্ছে: বাংলাদেশের নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরেই এবার বিএনপি নেতা তথা খালেদাপুত্র তারকে রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে বাংলায় পোস্ট করে তিনি লিখলেন, ‘বাংলাদেশের সকল ভাইবোনকে, জনগণকে, জানাই আমার শুভনন্দন, আমার আগাম রমজান মোবারক। বাংলাদেশের এই বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেকভাই, তার দলকে ও অন্যান্য দলকে। সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন। পাশাপাশি তার আশা, দুই বাংলার সুসম্পর্ক বজায় থাকবে।

বাংলাদেশের ফল ঘোষণার পরে বিএনপি-র সরকার গঠন সময়ের অপেক্ষা। সেই আবহেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমানকে। এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তিনি এও লিখেছেন, ‘আমাদের সঙ্গে সব সময় বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, এটাই আমরা কামনা করি।

Dainik Digital: