দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ২৪ মার্চঃ আগরতলায় পুর নিগম আয়োজিত চৈত্র মেলার টোকেন বিলিকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুর নিগমের টাস্ক ফোর্সের কর্মীদের লাঠির আঘাতে এক মহিলা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। উত্তেজনার পরিস্থিতি সামাল দিতে পশ্চিম আগরতলা থানার ওসি রানা চ্যাটার্জির নেতৃত্বে পুলিশ, টিএসআর জওয়ানদের ছুটে যেতে হয়।
চৈত্র মেলাকে কেন্দ্র করে এই বছরও টোকেন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। আগরতলার বুকে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী মেলায় দোকান বসানোকে ঘিরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়িয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে টাকার বিনিময়ে টোকেন বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সারা বছর এই মেলার জন্য অপেক্ষা করেন। এই সময়টাতেই তারা কিছু অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পান। কিন্তু এবছর তাদের সেই আশায় ভাটা পড়েছে বলে অভিযোগ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি, আগরতলা পুর নিগমের পক্ষ থেকে মেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ করা হলেও বাস্তবে তা সুষ্ঠুভাবে কার্যকর করা হচ্ছে না। বরং টাকার বিনিময়ে টোকেন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে বহু প্রকৃত ব্যবসায়ী ফর্ম জমা দিয়েও দোকান বসানোর সুযোগ পাচ্ছেন না। এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, পুর নিগম থেকে বিনামূল্যে ফর্ম দেওয়ার কথা থাকলেও গত বছর তিনি ৮ হাজার টাকা দিয়ে ফর্ম সংগ্রহ করেছিলেন। এবছরও দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও তিনি ফর্ম পাননি। তার অভিযোগ, সীমিত সংখ্যক ফর্ম দেওয়া হলেও বাকি ফর্ম গোপনে বিক্রি করা হচ্ছে। আরও অভিযোগ, এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলতেই কিছু ব্যবসায়ীর উপর নিগমের ট্যাক্স ফোর্সের সদস্যরা চাপ সৃষ্টি করেন। এমনকী এক মহিলা ব্যবসায়ীকেও শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে স্বচ্ছ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। চৈত্র মেলার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনকে কেন্দ্র করে এমন অনিয়ম ভবিষ্যতে যাতে না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, মেয়র দীপক মজুমদার জানান, চলতি বছরে চৈত্র মেলা চিলড্রেন্স পার্কে আয়োজন করা হবে। ব্যবসায়ীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পুর নিগমের পক্ষ থেকে একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে স্টলগুলিতে আচ্ছাদনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন ব্যবসায়ীর জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মেলার সার্বিক পরিবেশ সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি নিয়ম মেনে সবাইকে ব্যবসা করতে আহ্বান জানিয়েছেন।