খুমুলুঙ্গে জনসভা প্রদ্যোত, ২৮ আসনেই লড়বে মথা!!

দৈনিক সংবাদ অনলাইন, ১৪ মার্চ: এডিসি ভোটে এককভাবে লড়াই করবে তিপ্রা মথা। ২৮ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করে নিয়েছে মথা। শাসকদল বিজেপিকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া হবে না। জোট ধর্মের শর্ত ভঙ্গ করেছে বিজেপি। শাসকদল বিজেপি তিপ্রা মথার সাথে জোটে থাকতে চায় না, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তিপ্রা মথার বিরুদ্ধে আসন্ন এডিসি ভোটে ২৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বিজেপি। স্বপ্ন দেখার অধিকার সবার রয়েছে। যদিও বাস্তব হল এডিসির ২৮ আসনেই বিজেপির ভরাডুবি হবে। এডিসি ভোট ইস্যুতে বিজেপিকে ঠিক এভাবেই হুঁশিয়ার দিলেন প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ। শনিবার খুমুলুঙে নির্বাচনি সমাবেশে তিপ্রা মথা সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবেই আজ এক সমাবেশে বলেছেন বিজেপি ২৮ আসনে প্রার্থী দেবে। দিতেই পারেন। তবে ভালো দিক হল এখন আর নয়াদিল্লীর হাই কমান্ডের কাছে গিয়ে মথা জোট ধর্ম লঙ্ঘন করেছে বলতে পারবে না বিজেপি। প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ বলেন এডিসি ভোটে বিজেপিকে উপযুক্ত জবাব দেব আমরা। ২৮ আসনেই বিজেপি প্রার্থীদের ঢাকি সহ বিসর্জন হবে। জনজাতি মানুষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এডিসি ভোট। আসন্ন এডিসি ভোটে ত্রিপুরায় নয়া ইতিহাস তৈরি করবেন রাজ্যবাসী। পাহাড়ের মানুষের ঐক্য সংহতি দেখবেন ভারতবাসী। তৈরি থাকুন। পাহাড়ের মানুষ পথে নেমে গিয়েছেন। জনজাতিদের ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহারের দিন শেষ হয়ে গিয়েছে। অর্থের প্রলোভন দিয়ে জনজাতিদের ভোট কেনা যাবে না। প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ বলেন শিশুদের কাছ থেকে শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরার রাজধানীতে বসে অনেক কিছু বলা যায়। যদিও বাস্তব হল পাহাড়ের মানুষের শিক্ষার মান উন্নয়নে কিছুই করেনি সরকার। নিজেদের দোষ ঢাকবার জন্য আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করতেই পারেন।ভালো দিক হল পাহাড়ের মানুষের কাছে সব ধরা পড়ে গিয়েছে।

তিপ্রা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ বলেন মগ – চাকমা – জমাতিয়া রিয়াং – দেববর্মা – বাঙালি – হিন্দু মুসলিম – খ্রিস্টান এসব করে আদতে আমাদেরই সর্বক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে।এই সুযোগে আমাদের বোকা বানিয়ে ক্ষমতায় বসছেন নেতাবাবুরা। জনজাতি হচ্ছে গরিব। নেতা বাবুরা হচ্ছেন ধনী। বিভাজনের রাজনীতি ভুলে যেতে হবে। তবেই জনজাতি মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে। এটাই বাস্তব। প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ বলেন “রাম মন্দির” গড়তে পাঁচশ বছর লেগেছে। প্রায় টানা ত্রিশ বছর আদালত সহ নানা আন্দোলন করে “রাম মন্দির” ভারতবাসীর জন্য উৎসর্গ করতে পারল বিজেপি। ২০২৬ সালের এডিসি ভোেট জনজাতি মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেবে। রাম মন্দিরের মতো এক গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডও হবে। প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ বলেন জনজাতি মানুষের জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা পাঠাচ্ছে নয়াদিল্লী। বিস্ময়ের ঘটনা হলো জনজাতি উন্নয়নের অর্থরাশি গ্রাম পাহাড়ে আসছে না। জনজাতি মানুষ এই অর্থের ছিটেফোঁটাও পাচ্ছে না। নয়াদিল্লীর অর্থরাশি রাজধানী আগরতলায় গায়েব হয়ে যাচ্ছে। এটাই বাস্তব। তিনি বলেন উপজাতি উন্নয়নের নামে জনজাতি মানুষকে ঠকানো হচ্ছে। সর্বক্ষেত্রে এডিসিকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ১৫ লক্ষ জনজাতি মানুষের অস্তিত্ব রক্ষায় পথে নেমেছি আমরা। তিনি বলেন বিজেপি – আইপিএফটি তিপ্রা মথা – সিপিএম (জি এম কংগ্রেস দলের প্রসঙ্গ টেনে পি) আমরা আজ বিভাজিত। স্বাধীনতার ৭৬ বছরে জনজাতি মানুষ সর্বক্ষেত্রে বঞ্চিত। এখনো আমাদের অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের মত অধিকার চাইতে হচ্ছে।

এর থেকে লজ্জার কী হতে পারে। রাজনীতি ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের বুঝতে হবে পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহারের একটি জেলা থেকেও আমাদের জনসংখ্যা কম। নয়াদিল্লী থেকে আমাদের কেউ সাহায্য করতে আসবে না। ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনজাতিদের সব সমস্যার নিরসন হবে। রাজনীতি ভুলে তিনি সকলকে মথায় শামিলের আহ্বান জানান। ভাষার অধিকার, ভূমির অধিকার, আর্থ-সামাজিক অধিকার, শিক্ষার অধিকার, অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের অধিকার আদায়ে তিনি সকলে পথে নামার আহ্বান জানান। প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ বলেন ত্রিপুরায় দশকের পর দশক উপজাতি জনসমাজকে রাজনৈতিক মতাদর্শ টেনে বিভাজিত করা হয়েছে। ফলে জনজাতি মানুষ পিছিয়ে রয়েছেন। এখনো যদি আমরা রাজনীতি ভুলে ঐক্যবদ্ধ না হতে পারি, আগামীদিনে ভবিষ্যতেও গোলামি করতে হবে। ভোট দেব আমরা -সুফল পাবে অন্যরা। উল্লেখ্য এদিন তিপ্রা মথার মিছিল ও সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

Dainik Digital: