ক্যাশ রাজনীতি!!

দৈনিক সংবাদ অনলাইন,সম্পাদকীয়,২০ ফেব্রুয়ারি :-
অসন্তুষ্ট সুপ্রিম কোর্ট।যেভাবে ভোটের মুখে রাজনৈতিক দলগুলি ভোটারদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প ঘোষণা করে তাতে অসন্তুষ্ট রীতিমতো সুপ্রিম কোর্ট।সুপ্রিম কোর্টের মতে,এটা আর কতদিন? কাহাতক চলবে এটা। এটাতো একপ্রকার ঘুষ। ভোট কিনতে রাজনৈতিক দলগুলি এই কৌশল অবলম্বন করছে। এটা গত এক-দেড় দশক হবে এদেশে বেশি বেশি করে চালু হয়েছে। ভোেট এলেই ভোটারদের দরজায় রাজনৈতিক দলগুলি এসে হাজির হয় প্রতিশ্রুতির ডালা নিয়ে। প্রথম ক্যাবিনেটেই অমুক দেওয়া হবে, তমুক দেওয়া হবে, এত চাকরি দেওয়া হবে, এত কর্মসংস্থান হবে ইত্যাদি আরও কত কিছু প্রতিশ্রুতি। শুধু তাই নয়, জল ফ্রি, বিদ্যুৎ ফ্রি ইত্যাদি নানা প্রলোভনও ভোটের আগে বাজারে নিয়ে আসা হয় রাজনৈতিক দলগুলির তরফে। শুধু তাই নয়, যেভাবে ক্যাশ দেওয়া হয় ভোটেরমুখে বিভিন্ন নামে ভোটারদের তাতেই ক্ষেপেছে সুপ্রিম কোর্ট।
বহুদিন ধরেই সাধারণ মানুষের এটা একটা ক্ষোভ ছিল। বিশেষ করে সবাই তো এই সুবিধা পায় না। এর ক্যাটাগরি কী? এর ভিত্তি কী? এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। নির্বাচন আমাদের দেশের গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। জনগণ কাজের ভিত্তিতে একটা সরকারকে নির্বাচিত করে। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে তত দেখা যাচ্ছে যে, নির্বাচন অনেকটা প্রহসন হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনে কৌশল, পেশীশক্তির ব্যবহার, অর্থশক্তির ব্যবহার, প্রশাসনের অপব্যবহার সবকিছুকে ববহার করে শাসকদল চায় ক্ষমতায় টিকে থাকতে। সঙ্গে থাকে ভোটারদের নানা উপায়ে বোকা বানানোর টোপ। মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে শুধু ভোট পাবার কৌশল এখন নির্বাচনের একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর উপর রয়েছে বিভিন্ন প্রকল্প চালুর নাম করে মানুষজনকে ক্যাশ দেবার একটা কৌশল।
সাম্প্রতিক বিহার ভোট এর জ্বলন্ত উদাহরণ। বিহার ভোট ঘোষণার ঠিক আগে ওই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নামে একটি প্রকল্প চালু করে মহিলাদের নগদ দশ হাজার টাকা দেবার ব্যবস্থা করা হয়। প্রায় দেড় কোটির বেশি মহিলাকে এই সুবিধা দেওয়া হয়। দেখা গেছে, ভোটের দিনও মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা গেছে, ভোটের পরেও টাকা গেছে। স্বাভাবিকভাবে মহিলারা টাকা পাবার লোভে বেশি সংখ্যক ভোটে অংশ নিয়েছেন। তেমনি মধ্যপ্রদেশে, মহারাষ্ট্রে ভোটের মুখে শাসকদল মহিলাদের নামে যোজনা চালু করে ক্যাশ সুবিধা মানুষকে পাইয়ে দিয়ে ভোটে ফায়দা লুটেছে। প্রশ্ন হল, এভাবে যদি নির্বাচনের আগে যোজনা চালু করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকিয়ে দিয়ে যদি ভোটে ফায়দা তোলে নেওয়া হয় তাহলে এটা কী গণতন্ত্র হলো? বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ গণতন্ত্র হিসাবে ভারতে এখন এভাবে গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসব ভোটকে ব্যবহার করা হচ্ছে। মানুষ ভোটের সময় হয়ে যায় গণদেবতা। এখন আর গণদেবতা নন। ভোটাররা এখন রাজনৈতিক দলগুলির কাছে পণ্যের শামিল। মানুষ পণ্য হিসাবে গণ্য হচ্ছে। অর্থাৎ ভোটের মুখে মানুষের ভোটকে প্রায় কেনা হচ্ছে ক্যাশ দিয়ে।
শুধু ক্যাশ নয়, প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয় লোভনীয় নানাহ। যেমন বিভিন্ন কর মকুব, বিদ্যুৎ ফ্রি, জল ফ্রি ইত্যাদি নানা লোভনীয় অফারও দেওয়া হয় ভোটারদের। এতে করে যদি প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হয় তাহলে হাজার হাজার কোটি টাকা চলে যাচ্ছে সরকারী কোষাগার থেকে। সুপ্রিম কোর্ট তাই প্রশ্ন তোলেছে, এই পয়সার উৎস কী? এর শেষ কোথায়? এই প্রবণতা কতদিন বয়ে চলতে থাকবে? দেশের আম নাগরিককে ভাবতে হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়া সংস্কারকদেরও এটা ভাবতে হবে এটা কতদিন ধরে চলবে? এর শেষ কোথায়? এভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কতদিন টিকে থাকবে? দেশের সামনে তো ভয়ঙ্কর দিন আগত মনে হচ্ছে। দেশবাসীকে তাই অতি দ্রুত সজাগ হতে হবে। দেরীতে হলেও দেশের সর্বোচ্চ আদালত এ নিয়ে চিন্তা আর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।এখন এই সতর্কতা কোনো কাজে আসে কিনা তাই দেখার বিষয়।
Dainik Digital: