কোর্টের রায় কার্যকর নিয়ে দ্বিধায় কর্মচারী!!

অনলাইন প্রতিনিধি :- শূন্যপদের বিপরীতে নিয়মিত বেতনক্রমের চাকরিতে পাঁচ বছরের জন্য স্থির বেতনের প্রশাসনিক সংস্কৃতির অবসান হলো। আদৌ হলো কি? আদালত নিয়মিত চাকরিতে স্থির বেতনকে অসাংবিধানিক বলেছে। চাকরিপ্রাপক যে হলফনামা সই করেছে তাকেও বলা হয়েছে নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্বকারী সরকারী নীতি। তাহলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার এখন কি করবে – কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা মিটিয়ে দেবে নাকি বামজমানার ‘কর্মচারী ঠকানোর’ উত্তরাধিকার ব্যয়ে চলবে? নাকি বামেদের প্রশাসনের অভ্যাস মতো জনগণকে ঠকাতে জনগণের টাকায় সুপ্রিম কোর্টে যাবে?বৃহস্পতিবার টেট-এর মাধ্যমে নিযুক্তিপ্রাপ্ত ১৬ জন শিক্ষকের দুটি পৃথক মামলায় হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ যে রায় দিয়েছে, তাকে ত্রিপুরার কর্মচারীদের স্বার্থে যুগান্তকারী বলা যাবে। আড়াই দশক ধরে সরকারী দপ্তরের সমকাজে অসম বেতনের দৃষ্টান্ত চলে আসছিল। বিচারপতি রামচন্দ্র রাও এবং বি পালিতের ডিভিশন বেঞ্চ ঘটনাটিকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে বিগত বাম আমলের দুটি সার্কুলার (২০০১ সাল এবং ২০০৭ সাল) খারিজ করে দিয়েছে। টেট শিক্ষকদের এই মামলাটি চলে আসছিল ২০২২ সাল থেকে। বারবারই সরকার পক্ষের বক্তব্য ছিল, এই শিক্ষকরা পাঁচ বছর স্থির বেতনে কাজ করার মুচলেখা দিয়েছে।তাই নিয়মিত বেতনক্রম দাবির অধিকার তাদের নেই।হাইকোর্টের একক বিচারপতির বেঞ্চ এই যুক্তি মেনে নিয়েছিল। ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, মুচলেকা সংক্রান্ত সরকারী নীতিগত সিদ্ধান্ত ব্যক্তির মৌলিক অধিকার খন্ডন করছে কিনা-তা দেখার এক্তিয়ার আদালতের। বামেদের তৈরি ২০০১, ২০০৭ সালের দুটি সার্কুলার ছিল সরকারের অস্ত্র। টেট শিক্ষকদের মামলা জয়ে আলোড়িত সরকারী কর্মচারী মহল। যদিও এদিন আদালতের যে রায় সামনে এসেছে তা একটি সাধারণ পর্যবেক্ষণ। তবে কর্মচারীকুল হিসাব কষে নিয়েছেন ২০২২ সালে মামলা শুরুর তিন বছর আগে অর্থাৎ ২০১৯ সালে যারা চাকরি পেয়েছেন তাদের নতুন বেতন স্থির হবে নোশনাল ফিক্সেশন করে। আর বাকিরা? প্রশাসনে কোন সাল থেকে রেগুলার চাকরিতে ফিক্সড বেতন শুরু হল? সেই ২০০১-এর পর থেকে। সরকারী কোনও তথ্য ছাড়া স্মৃতি হাতড়ে যতটুকু দেখা যায় বাম আমলে শিক্ষকের চাকরি ছাড়া আর কোনও চাকরি বাতিল হয়নি। যেমন ২০০৫ এবং ২০০৭ সালে মিলিয়ে প্রায় দু’হাজার পিজিটির চাকরি হয়। ২০০৯ সালে নোডাল হিসেবে ওয়ার্ক অ্যাসিস্টেন্ট ও এগ্রি অ্যাসিস্টেন্ট পদে পাঁচ হাজার চাকরি দেওয়া হয়। ২০১২ সাল নাগাদ সায়েন্স টিচার হিসেবে নিযুক্তি পেয়েছিলেন প্রায় এক হাজার জন।এরপর ২০১৭ সালে শুরু হয় টেট। গত নয় বছরে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৮০০০ শিক্ষক নিযুক্তি পেয়েছেন। ২০২১ সালে শুরু হয় জেআরবিটির নিয়োগ। গত পাঁচ বছরে অন্যূন ৫০০০ লোকের নিযুক্তি হয়েছে জেআরবিটিতে। অন্য সব নিয়োগ বন্ধ থাকলেও প্রতি বছরই ডাই ইন হারনেসে কিছু লোকের নিযুক্তি হয়ে থাকে। এই সংখ্যা সাত হাজার ধরা হলে নিয়মিত চাকরিতে স্থির বেতনে দিন কাটিয়ে এসেছেন এমন কর্মচারীর সংখ্যা ২৮ থেকে ৩০ হাজার। আদালতের নির্দেশের পর যারা নোশনাল ফিক্সেশনের বাইরে থাকবেন তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এরিয়ার-এর মাধ্যমে, তৎসঙ্গে নয় শতাংশ হারে সুদ। দেখা যায় প্রশাসনে যিনি ২০০৭ বা ২০০৯ থেকে স্থির বেতনে নিয়মিত চাকরি শুরু করেছিলেন তিনি আজ সুদ সহ এরিয়ার দাঁড়াবে ১২ থেকে ১৪ লক্ষ টাকা। নিঃসন্দেহে রাজ্য সরকারকে বিশাল আর্থিক যোগানের বাধ্যবাধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। অত কিম:। কর্মচারীবান্ধব বিজেপির সরকার কি তার কর্মচারীকুলের অধিকার রক্ষায় ডবল ইঞ্জিনের ক্ষমতায় টাকা জোগাড় করবে? নাকি সুপ্রিম কোর্টে এসএলপি-র জন্য বাম পরম্পরায় কয়েক কোটি টাকা খরচ করবে? কর্মচারী ঠেকাতে বাম আমলে এমন নজির রয়েছে ভুরিভুরি।

Dainik Digital: