অনলাইন প্রতিনিধি :-রাজ্যের কৃষকদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার পুনরায় ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় কর্মসূচির সূচনা করল। বুধবার দুপুরে ধর্মনগরে বিবেকানন্দ সার্ধ শতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।
এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক যাদব লাল দেবনাথ ও শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথ, জেলাশাসক চাঁদনী চন্দ্রন, খাদ্য দপ্তরের বিশেষ সচিব দেবপ্রিয় বর্ধন, অতিরিক্ত সচিব ও অধিকর্তা সুমিত লোধ, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, পরিচালক মানিক লাল দেববর্মা, পরিবহণ কমিশনার সুব্রত চৌধুরী, মহকুমা শাসক দেবযানী চৌধুরী এবং জেলা সভাধিপতি অপর্ণা নাথ সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী কাজল কুমার দাস।
অনুষ্ঠানের স্বাগত ভাষণে জেলাশাসক চাঁদনী চন্দ্রন বলেন, উত্তরজেলা প্রধানমন্ত্রী জনধন কৃষি যোজনার জন্য নির্বাচিত হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বিশেষ প্রকল্প। কৃষিতে পিছিয়ে থাকা একশোটি জেলাকে এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমাদের জেলায় পাহাড়ি অঞ্চল, জলের সংকট এবং প্রশিক্ষণের অভাবের মতো সমস্যা থাকলেও, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে আমরা এই যোজনার মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর। খাদ্য দপ্তরের বিশেষ সচিব দেবপ্রিয় বর্ধন তার বক্তব্যে জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষ থেকে রাজ্যে সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয়ের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা রাজ্য সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল।প্রতি বছর দুটি মরশুমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় পঞ্চাশটি ধান ক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া চালানো হয়। ভারত সরকার দ্বারা নির্ধারিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ বছর প্রতি কুইন্টাল ধানের দাম ২৩৬৯ টাকা ধার্য করা হয়েছে।গত বছর থেকে আধার এনেবেল পেমেন্টের মাধ্যমে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ও দ্রুত টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা আগে বিলম্বিত হত।তিনি এই প্রক্রিয়াকে সফল করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।বিধায়ক যাদব লাল দেবনাথ তার বক্তব্যে বর্তমান এবং পূর্ববর্তী সরকারের মধ্যে কৃষক দরদি নীতির পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটা সময় ছিল যখন কৃষকদের সার, বীজ, কীটনাশকের জন্য আন্দোলন করতে হত। কিন্তু ২০১৪ সালে কেন্দ্রে এবং ২০১৮ সালে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর কৃষকদের আর রাস্তায় নামতে হয়নি। প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির টাকা কৃষকরা কোনও রকম ডেপুটেশন ছাড়াই পাচ্ছেন।তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের নেতৃত্বে রাজ্যে ধান কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। তিনি এও বলেন যে, সরকারী আধিকারিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে রাজ্যে কৃষি বিকাশ অভিযান সফল হয়েছে এবং ত্রিপুরা আজ শাকসবজি, খাদ্যশস্য, মাংস, ডিম ও দুধ উৎপাদনে স্বনির্ভরতার পথে অনেকটাই এগিয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, উৎসবের মরশুমে কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আমরা আজ থেকে রাজ্যব্যাপী ধান ক্রয় কর্মসূচি শুরু করলাম, যা আগামী এক মাস ধরে চলবে। আনন্দের বিষয়, ভারত ধান উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থান অধিকার করেছে এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আমাদের কৃষক বন্ধুদের। ২০১৮ সালের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী,আমাদের সরকার প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই কৃষকদের থেকে সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং সেই প্রক্রিয়া আজও চলছে।
মন্ত্রী পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আগের সরকার চাইলেই ধান ক্রয় করতে পারত, কারণ কেন্দ্রীয় নিয়ম অনুযায়ী রাজ্য কিনলে কেন্দ্র টাকা ফেরত দিয়ে দেয়। কিন্তু তারা তা না করে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর দায় চাপাত। আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে কৃষকদের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের সরকার ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৩০৩ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করেছে, যার ফলে ১ লক্ষ ২৫ হাজারের বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন এবং কৃষকদের অ্যাকাউন্টে মোট ৪৮৯ কোটি টাকা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যে ধানের এমএসপি ২০১৮-১৯ সালে প্রতি কেজি সতেরো টাকা পঞ্চাশ পয়সা ছিল, আজ তা বেড়ে তেইশ টাকা ঊনসত্তর পয়সা হয়েছে এবং আগামী দিনে আরও বাড়বে। সব শেষে মন্ত্রী আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, যাতে কোনও কৃষক ধান বিক্রি করতে এসে হয়রানির শিকার না হন এবং দ্রুত তাদের প্রাপ্য টাকা পেয়ে যান। তিনি বলেন, যতদিন আমাদের সরকার থাকবে, কৃষকদের কাছ থেকে বছরে দুবার ধান ক্রয় প্রক্রিয়া চালু থাকবে. এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ভবনের বাইরে ছয়জন কৃষকের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ধান ক্রয় করা হয়।