এসআইআরে স্বস্তি, অস্বস্তি

এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম শুনানিতে আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস।এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলো তৃণমূল। তাতে সুপ্রিম কোর্ট অধিকাংশ বিষয়েই মান্যতা দিয়েছে বলে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে এবং এ নিয়ে তৃণমূল দলীয় স্তরে প্রচারও শুরু করে দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এও বলছে যে, এসআইআর নিয়ে বিজেপির খেলা শেষ। তাৎপর্যপূর্ণভাবে মাত্র দু'দিন আগেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে কার্যত অভিযোগ জানিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন বলে গণতন্ত্রকে বাঁচানোর আর্জি জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সাথে সংবিধানকে বাঁচানোরও আর্জি জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান বিচারপতির কাছে। ঠিক তার দু'দিন পরই সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল কংগ্রেস এসআইআর নিয়ে বেশ স্বস্তি পায়। অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস এসআইআর নিয়ে মানুষের হয়রানি সহ নানা সুরাহার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলো।
কিছুদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেস মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সাথে সাক্ষাৎ করে একাধিক দাবি জানিয়ে এসেছিলো এবং তৃণমূল কংগ্রেস বেশ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতেই জ্ঞানেশ কুমারের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলো। আসলে এসআইআরের শুরু থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস এবং নির্বাচন কমিশন, বিজেপির সাথে ব্যাপক সংঘাত শুরু হয়। বিজেপি প্রথম থেকে তৃণমূলকে অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষক বলে আসছিলো। অথচ এসআইআর পরবর্তীতে যে খসড়া ভোটার তালিকা বের হয়েছে তাতে কতজন অনুপ্রবেশকারী আর রোহিঙ্গা রয়েছে সেই তথ্য দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। ফলে অনুপ্রবেশ কিংবা রোহিঙ্গা ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন কিংবা বিজেপির প্রচার যে একপ্রকার ভোঁতা হয়ে গিয়েছে তা বলাই বাহুল্য। বিজেপি এখন থেকেই বলে আসছে যে, পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক হারে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী রয়েছে এবং অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাও রয়েছে। সুতরাং বিজেপির দাবি ছিল অন্তত ১.২০ কোটি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে। এই সমস্ত ভোটাররা অবৈধ। এবার এসআইআর পর্ব চলাকালীন দেখা গেল যে, খসড়া ভোটার তালিকায় নাম বাদ গিয়েছে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের।এরপরও অদৃশ্য চাপে নির্বাচন কমিশন ১.২০ কোটি মানুষের নামে নাটিশ জারি করেছে যেন তারা শুনানিতে উপস্থিত থাকেন। কেননা এদের ভোটার তালিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সংশয় রয়েছে এবং ভোটেরদের নানা কথা নিয়ে অযথা হয়রানির অভিযোগ রয়েছে মিশনের বিরুদ্ধে।এছাড়াও ভোটাররা শুনানিতে অংশ নিতে গিয়েও নাভাবে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।তৃণমূল কংগ্রেস নানা বিষয়গুলি সামনে এনে সুপ্রিম কোর্টের নজরে নিয়ে গিয়েছিলো।শুধু তাই নয়, বয়সের নথি যাচাই নিয়েও শুনানিতে ব্যাপক হয়রানি হতে হচ্ছিল মানুষজনকে। আপাতত মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে মান্যতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট জন্মের প্রামাণ্য দলিল হিসাবে।নির্বাচন কমিশনের আসল উদ্দেশ্য যদি হতো ভোটার তালিকা সংশোধন তা হলে তারা মানুষের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের দিকে প্রথম থেকেই ধ্যান দিতো। কিন্তু এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রথম থেকেই সন্দেহজনক। আসলে এসআইআরের উদ্দেশ্য পুরোপুরি রাজনৈতিক। কেননা এসআইআর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জন্য যে স্লোগান দেওয়া হয়েছে তা পুরোপুরি রাজনৈতিক। বিহারেও একইভাবে স্লোগান দেওয়া হয়েছিলো যে অনুপ্রবেশকারীদের জন্যই নাকি এসআইআর। কিন্তু না বিহারে, না পশ্চিমবঙ্গে, একজনও অনুপ্রবেশকারীর নাম এসআইআরে জানাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। তাই বলা যায় বিহারে এসআইআর পর্ব ছিল রাজনৈতিক, এবার পশ্চিমবঙ্গেও তা চলছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। অন্তত নির্বাচন কমিশনের মতিগতি দেখে তা বোঝা যায়।শুধু পশ্চিমবঙ্গেই যে এসআইআর নিয়ে অভিযোগ উঠেছে এমনটা নয়।ডবল ইঞ্জিনের যোগী রাজ্যেও এসআইআর প্রাথমিক পর্বের পর খসড়া ভোটার তালিকায় তিন কোটি নাম বাদ গেছে। তবে যোগী রাজ্যে এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়েছে কমিশন। শহরের জন্য একরকম ভোটার তালিকা এবং গ্রামের জন্য আরেকরকমের ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। দেখা গেছে গ্রামের সাথে শহরের খসড়া ভোটার তালিচায় ব্যাপক গরমিল। গাঁজাঘোরি নির্বাচন কমিশনের কাণ্ডকারখানা দেখে ঘোড়াও হাসছে।
Dainik Digital: