দৈনিক সংবাদ অনলাইন, ১৩মার্চ: এমবিবি আগরতলা বিমানবন্দরে টার্মিনাল ভবনের ভেতর প্রবেশের ডিপার্চার গেট কম থাকায় বিমানযাত্রীদের প্রতিদিন বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। চার বছর আগে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা খরচ করে অত্যাধুনিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু টার্মিনাল ভবনের ভেতর প্রবেশে পর্যাপ্ত সংখ্যায় গেট নেই। সেই কারণে একটি মাত্র ডিপার্চার গেট চালু থাকায় বিমানযাত্রীরা টার্মিনাল ভবনে প্রবেশ করতে গিয়ে প্রায় সময়ই বড় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ডিপার্চার যে গেটটি চালু রয়েছে, এই গেটে শুধু দুই ভাগে অর্থাৎ দুই লাইনে টার্মিনাল ভবনের ভেতর প্রবেশ করা যায়। গত একমাস আগে ডিজি যাত্রার সুবিধা চালু করার ফলে এই গেট দিয়েও টার্মিনাল ভবনের ভেতরে যাত্রীরা প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু ডিজি যাত্রার গেট দিয়ে টার্মিনাল ভবনের ভেতর প্রবেশ করতে গেলে একটি যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে যাত্রীদের টার্মিনাল ভবনের ভেতর প্রবেশ করতে হয়।এই নয়া পদ্ধতির ব্যবহার সিংহভাগ যাত্রীরই
অজানা। যদিও কম্পিউটার মেশিন কীভাবে যাত্রীরা ব্যবহার করবেন, তা দেখিয়ে দেওয়ার জন্য সিআইএসএফ জওয়ান থাকছেন। কিন্তু তার পরও ডিজি যাত্রার গেট দিয়ে সিংহভাগ বিমানযাত্রীই টার্মিনাল ভবনে প্রবেশ করতে যান না। ফলে ডিপার্চার গেট দিয়েই সিংহভাগ যাত্রী টার্মিনাল ভবনের ভেতর প্রবেশ করছেন।
কিন্তু তাতে সমস্যা হল ডিপার্চার গেট দিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিমানযাত্রীর লাইন দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে।ডিপার্চার গেট দিয়ে প্রবেশে পৃথক দুইটি লাইনে প্রবেশ করা গেলেও একসঙ্গে এত বেশি সংখ্যক বিমানযাত্রী বিমানের জন্য টার্মিনাল ভবনে প্রবেশ করতে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে সমস্যায় পড়ছেন। লাইনে বিলম্ব হচ্ছে। অনেকটা সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে প্রবেশ করতে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ।গেটে সিআইএসএফ জওয়ানরা বিমানযাত্রীর টিকিট ও পরিচয়পত্র দেখায়, তাতেও সময় লাগছে।
ডিপার্চার গেটে বিমানযাত্রীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টার্মিনাল ভবনে প্রবেশ করতে গিয়ে সময় নষ্ট হওয়ায় প্রায়ই অভিযোগ উঠছে, টার্মিনাল ভবনে প্রবেশ করে রিপোর্টিং কাউন্টারে নির্দিষ্ট সময় পৌঁছাতে পারছেন না। বিমানযাত্রীকে রিপোর্টিং কাউন্টারে পৌঁছে আবার সেখানেও প্রায়ই যাত্রীর লাইন থাকছে। একবার ডিপার্চার গেটে সময় নষ্ট হচ্ছে, আবার রিপোর্টিং কাউন্টারে গিয়েও লাইনে দাঁড়ানোয় সময় নষ্ট হওয়ায় যাত্রীরা প্রচণ্ড নার্ভাস ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন বলে প্রায়ই অনেক বিমানযাত্রী এই অভিযোগ করছেন।শুধু তাই নয়, বিমান ছাড়ার ৬০ মিনিট আগে কাউন্টারে রিপোর্টিং করে লাগেজ জমা দিয়ে বোর্ডিং কার্ড না নিলে টিকিটও বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে বলেও বিমানযাত্রীদের অভিযোগ। বিমানের রওয়ানা হওয়ার যে সময় থাকে, এই সময়ের অন্তত ৬০ মিনিট আগে কাউন্টারে রিপোর্টিং করতে হয়। রিপোর্টিং করে বোর্ডিং কার্ড নিয়ে আবার সিকিউরিটি চেক করতে হয়। সেখানেও কিছুটা লাইন থাকে।
বিমানযাত্রীদের দাবি, টার্মিনাল ভবনের ভেতর প্রবেশে আরও অন্তত একটি গেট চালু করা হোক। তাহলে টার্মিনাল ভবনে প্রবেশে বিমানযাত্রীদের আর লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট হবে না। দেশের সব বিমানবন্দরে টার্মিনাল ভবনে প্রবেশে অনেকগুলি ডিপার্চার গেট চালু থাকে। ফলে যাত্রীদের সুবিধার জন্য এমবিবি আগরতলা বিমানবন্দরেও আরও ডিপার্চার গেট চালু করার বিষয়ে বিমানবন্দর অথরিটিকে আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য দাবি উঠেছে। রাজ্য সরকারকেও এই সমস্যা সমাধানে বিমানবন্দর অথরিটির সঙ্গে কথা বলারও দাবি উঠেছে।