এডিসি ভোট কথা

সম্পাদকীয়, ১০ মার্চঃ দুয়ারে এডিসি ভোট। সামনের মাসের মাঝামাঝি সময়েই হয়তো পাহাড়ে ভোট। তা নিয়েই এখন প্রস্তুতি সব শিবিরে। প্রশ্ন হলো, এবার কি পাহাড়ে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে? ত্রিমুখী বলা হলো এখানে এই কারণে, এবার ভোটে মথা এবং বিজেপি জুজুধান দুই শিবিরে পরিণত হয়েছে। রাজ্যের মানুষ গত কয়েক মাস ধরে তা দেখেই চলেছে। তবে এখনো বলা সম্ভব নয় যে, তারা জোট করে লড়বে নাকি একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। অন্যদিকে সিপিএম কিন্তু এবার পাহাড়ে হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে ভোটমুখী হয়েছে। এবারের ভোটের অন্যতম চমক হচ্ছে, ভোট ঘোষণার আগেই সিপিএম তার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে। এতেই বোঝা যাচ্ছে যে, এবার সিপিএম অনেকটাই সংগঠিত এবং তারা এডিসি নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট সিরিয়াস। শুধু তাই নয়, গত কয়েক মাস যাবৎ মথা এবং বিজেপির মধ্যে দ্বৈরথ চলাকালীন সিপিএম কিন্তু একটু একটু করে ঘর গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তারই ফলস্বরূপ এডিসি ভোট ঘোষণার আগেই তাদের এই প্রার্থী তালিকা। দীর্ঘদিন ত্রিপুরায় বামেদের ক্ষমতা থাকার সুবাদে এডিসিতেও বামেদের প্রভাব ছিল। বিজেপি শাসনে গত ২০২১ সালের এডিসি নির্বাচনে সিপিএম পাহাড়ে বড়োসড়ো ধাক্কা খায়। ফলে পাহাড় তাদের হাতছাড়া হয়।

২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে ত্রিপুরায় এক অদ্ভুত ধরনের রাজনৈতিক রসায়ন পরিলক্ষিত হচ্ছে। একদিকে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি এবং মথা জোটবদ্ধ হয়ে সরকার চালাচ্ছে, আবার অন্যদিকে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে সমালোচনায় মুখর হচ্ছে, জমি দখলের চেষ্টায় একে অপরকে মারছে, মামলা-মোকদ্দমা হচ্ছে, বিবৃতি-পাল্টা বিবৃতির খেলা চলছে ইত্যাদি। পাহাড়েও একই খেলা চলছে। গত কয়েক মাস ধরে আরও লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, মথার বিরুদ্ধে শাসক বিজেপি অলআউট নেমেছে। আবার পাহাড়ে বিজেপি গেলেই মথা তাদের মারধর করছে, পার্টি অফিস ভাঙছে- ইত্যাদিও অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে তাই প্রশ্ন জাগছে যে, যেখানে দুটি দল জোটবদ্ধ হয়ে সরকার চালাচ্ছে, তারাই কি না আবার একে অপরের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছে, মারামারি করছে-এটা কী করে সম্ভব? এবং সর্বোপরি বর্তমানে এটা পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, মথা এবং বিজেপি জুজুধান দুই শিবিরে। তাই প্রশ্ন, এখানে এডিসি ভোটে দুই শিবির কি পৃথকভাবে ভোটে দাঁড়াবে? আর কয়েকদিনের মধ্যেই তা অবশ্য স্পষ্ট হয়ে যাবে।

পাহাড়ের ভোটে এবারের সবচেয়ে চর্চিত বিষয় হচ্ছে, বিজেপি একেবারে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ডাক দিয়েছেন-২৮-এ ২৮ আসন চাই। মথা সুপ্রিমো কম যান কিসে? তাঁরও ডাক-এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া হবে না। তিপ্রাসাদের স্বার্থে তিনিও চান পাহাড়ের দখল। শেষ পর্যন্ত যদি মথা এবং বিজেপি আলাদা আলাদাভাবে পাহাড়ের নির্বাচনে লড়াই করে, তাহলে এবারের নির্বাচন একটা চমকপ্রদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা হলফ করেই বলা যায়। ভোটের ফল কী হবে, তা নিয়ে সবার মনে কৌতূহল থাকবে। মথা এবং বিজেপি যদি পৃথকভাবে ভোটে লড়ে, তাহলে এমনও হতে পারে, সিপিএম বেশ কয়েকটি সিট পুনরুদ্ধার করতে পারে। রাজনৈতিক মহল এরকমই অনুমান করছে।

সুতরাং এবার পাহাড়ের ভোট অনেক রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট করে দিতে পারে। আবার এমনও হতে পারে, ভোটের আগে দিল্লি এতে হস্তক্ষেপ করে বিজেপি এবং মথাকে এক আসনে বসিয়ে ফের জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে লড়ার জন্য নির্দেশ দেবে। সেক্ষেত্রে ফল কী হবে, সেটা আগামই বলে দেওয়া যেতে পারে। সুতরাং এডিসি ভোটের সম্ভাব্য রণকৌশল দেখার জন্য আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতেই হবে। যদিও এখনো এডিসি নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এডিসির ভোটযুদ্ধের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যাবে। তাই আগামী কয়েক দিন রাজ্যের রাজনৈতিক সচেতন মানুষের কাছে কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এডিসির এই ভোটযুদ্ধ।

Dainik Digital: