এডিসিতে সুতা ও অটো ক্রয়ে ৩০ কোটি টাকা দুর্নীতি: রেবতী!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-এডিসিতে সুতা ও অটো ক্রয়কে ঘিরে প্রায় ত্রিশ কোটি টাকার নজিরবিহীন আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আনলেন প্রাক্তন সাংসদ রেবর্তী ত্রিপুরা। রবিবার তিনি এই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরেন।রেবতী ত্রিপুরার অভিযোগ, কাঞ্চনপুর কেন্দ্রের বিজেপি এমডিসি শৈলেন্দ্র কুমার নাথ তার এমডিসি তহবিল থেকে জনজাতি মহিলাদের স্বনির্ভরতার জন্য নিজে সুতা ক্রয় করেছেন প্রতি কেজি ৪৫৭ টাকা দরে। অথচ একই ধরনের সুতা এডিসির সদর দপ্তর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে কেনা হয়েছে প্রতি কেজি ৯৯৮ টাকা দরে।প্রাক্তন সাংসদের দাবি এই দুই দরের মধ্যে প্রতি কেজিতে ৫৪১ টাকার বিপুল পার্থক্য রয়েছে। এই অস্বাভাবিক দরের ব্যবধানকে কাজে লাগিয়ে সুতা ক্রয়ের নামে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। রেবতী ত্রিপুরার কথায় এটি কোনো প্রশাসনিক ভুল বা হিসাবের গরমিল নয়, বরং সুপরিকল্পিত আর্থিক লোপাট।শুধু সুতা নয়, অটো ক্রয় ক্ষেত্রেও নজিরবিহীন কেলেঙ্কারির অভিযোগ তোলেন রেবতী ত্রিপুরা। তিনি বলেন, জনজাতি উন্নয়নের নামে যে প্রকল্পগুলি গ্রহণ করা হয়েছিল সেগুলিকে কার্যত দুর্নীতির উৎসে পরিণত করা হয়েছে। এই দুর্নীতিমূলক লেনদেনের সঙ্গে এডিসির প্রাক্তন সিইও সিকে জমাতিয়া সরাসরি যুক্ত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন প্রাক্তন সাংসদ। পাশাপাশি এডিসির কার্যকরি সদস্য ভবরঞ্জন রিয়াংকে এক নম্বর দুর্নীতিবাজ বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।রেবতী ত্রিপুরার বক্তব্য, জনজাতি মহিলাদের স্বনির্ভরতার মতো সংবেদনশীল বিষয়কে সামনে রেখে সরকারী অর্থের এমন অপব্যবহার শুধু নৈতিকভাবে নিন্দনীয় নয়,প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার উপরও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দেয়। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই এডিসির অন্দর মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনা। তবে এই বিষয়ে এডিসি প্রশাসন কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোনোও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এডিসির কার্যকরি সদস্য ভবরঞ্জন রিয়াংয়ের বক্তব্য জানতে তাকে একাধিকবার ফোন করলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। এদিকে জনজাতি উন্নয়নের নামে বরাদ্দ সরকারী অর্থ আদৌ সঠিকভাবে খরচ হয়েছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন বাড়ছে।অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনিক মহলে নীরবতা থাকলেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে শুরু করেছে। উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও উঠেছে। এই অভিযোগ শুধু একটি কেন্দ্র বা কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং এডিসির সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। জনজাতি মহিলাদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, স্বনির্ভরতার নামে প্রকল্প নেওয়া হলেও বাস্তবে তারা তেমন কোনোও সুবিধা পাননি। প্রকল্পের মান উপকরণ সরবরাহ ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে শুরু থেকেই নানা অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল বলে তাদের অভিযোগ। সুতা ক্রয়ের ক্ষেত্রে দরের এমন অস্বাভাবিক ফারাক সরকারী ক্রয়বিধি ও আর্থিক নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়। নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় ক্রয়ের মধ্যে এতো বড় দামের ব্যবধান গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে অটো ক্রয়ের ক্ষেত্রেও প্রকৃত মূল্য সরবরাহকারী সংস্থা ও বিল পাসের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবি উঠেছে। এই দুটি প্রকল্প মিলিয়ে যে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে তার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়ে গেছে। সমগ্র ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত না হলে এডিসির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও অক্ষুণ্ণ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন দেখার এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং আদৌ কি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
Dainik Digital: