এডিসি’তে জাতীয় দলের ভরাডুবি হবে : প্রদ্যোত!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-এডিসি-ভিলেজ ভোটে জাতীয় রাজনৈতিক দলের ভরাডুবি হবে। আটাশের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে নয়া সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে তিপ্রা মথা। জাতীয় দল এককভাবে ত্রিপুরায় ক্ষমতা দখল করতে পারবে না। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য মথার কাছেই আসতে হবে। রাজ্যের নেতারা ঘুমে থাকলেও নয়াদিল্লীর হাইকমান্ডের কাছে এই সত্যটা ধরা পড়ে গিয়েছে। আজ ঠিক এভাবেই নাম না করেও শাসকদল বিজেপিকে পাল্টা দিলেন প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ।গোমতী জেলার মাখুকছড়ায় ৫০০ আসন বিশিষ্ট কমিউনিটি হলের উদ্বোধন করে প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ বলেন, ক্ষমতার দম্ভে আমাকে জনজাতিদের চ্যালেঞ্জ করবেন না, তাহলে ভোটে জয়ী হতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ ভোটের পর মন্ত্রিত্বও না থাকতে পারে! ক্ষমতা পরিবর্তনশীল এটাই বাস্তব। নয়াদিল্লীর হাইকমান্ডের কাছে রাজনৈতিক ব্যর্থতার বিষয়গুলি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।তৈরি থাকুন।তিপ্রা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ বলেন, জনসভায় বক্তব্যর মাধ্যমে ত্রিপুরায় বসে লন্ডন দখলেরও স্বপ্ন দেখতে পারেন। তাতে আপত্তির কিছু নেই। ক্ষমতা থাকলে আগামী সাত দিনের মধ্যে ভিলেজ কমিটির নির্বাচন এবং এডিসি ভোেট ঘোষণা হোক। দেখবেন আপনাদের ঢাকি সহ বিসর্জন হবে। আমরা সম্মান করি বলে যা খুশি তাই বললেন তা মানা হবে না।প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ বলেন, তিপ্রা মথা ছাড়া জাতীয় রাজনৈতিক দলের নেতারা নিজেদের আসন ধরে রাখতে পারবেন না। গ্রাম-পাহাড়- জেলা-মহকুমা এবং রাজধানী আগরতলায়ও মথার ভোট ছাড়া একজনও নিজেদের আসনে জয়ী হবেন না।তিনি বলেন, আইপিএফটি-জিএমপি নেতারা দেখছেন জাতীয় দলের অধীনে থেকে থেকে তাদের পরিবার স্বাধীনতার ৭৮ বছরেও কাজ ও খাদ্যের অধিকার চাইতে বাধ্য হচ্ছে। এর থেকে লজ্জার আর কি হতে পারে। জাতীয় রাজনৈতিক দল শুধুমাত্র জনজাতিদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করে গিয়েছে। দশকের পর দশক ক্ষমতায় ছিলো আমাদের ভোটে। অথচ নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভায় মাত্র দুজন একজন মন্ত্রী।তিনি বলেন, ত্রিপুরাতে এসআইআর চালুর জন্যে ভারতের নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলাম আমি। ওই সময়ও আমাকে অনেকেই বলেছিল আমি সাম্প্রদায়িক। এখন ভারত সরকার আমার সাথে একমত হয়ে বলছে এসআইআর হবে। আমাকে সাম্প্রদায়িক যারা বলেছিলেন তারা এখন কোথায়?প্রদ্যোত কিশোর আরও বলেন, ভারত সরকারের সঙ্গে আমাদের ত্রিপাক্ষিক চুক্তি প্রমাণ করেছে রাজ্যে জনজাতি মানুষ ২০২৫ সালেও সর্বক্ষেত্রে বঞ্চিত। জনজাতি মানুষের ভূমিকার অধিকার নেই, ভাষার অধিকার নেই, শিক্ষার অধিকার নেই, আর্থ সামাজিক অধিকার নেই, চাকরির অধিকার নেই, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের অধিকার নেই, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা-যাতায়াত ব্যবস্থা নেই, স্বাস্থ্যের অধিকার নেই। সংবিধানের ষষ্ঠ তপশিলে পর্যন্ত জনজাতিরা নেই। ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে আমাদের এই অধিকারগুলি ফিরিয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত সরকার।তিনি বলেন, বিস্ময়ের ঘটনা হলো জনজাতি মানুষের ভোটে রাজ্য সরকার গঠিত হলেও রোমান স্ক্রিপ্টে ককবরক পরীক্ষার অধিকার দেওয়া হয়নি। জনজাতি পরিবারগুলিকে গরিব বানিয়ে রাখা হয়েছে। বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনার জন্য জনজাতিদের বাধ্য করা হয়েছে। এখন হুমকি দিচ্ছেন।যা হাস্যকর।
প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ বলেন, শান্তি-সম্প্রতি, ঐক্য ও সংহতি রক্ষা করবো পাশাপাশি ২০২৮-এর ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের শক্তি বাড়াতে হবে যাতে তিপ্রা মথাকে বাদ দিয়ে রাজ্য সরকার গঠন না হয়। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের এডিসি-ভিলেজ ভোটে আমাদের বিপুলভাবে জয়ী হতে হবে। প্রয়োজনে বিরোধী শূন্য করবো আমরা।এ লক্ষ্যেই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
Dainik Digital: