একঘন্টাতেই পদ্মপ্রার্থী! আলোচনা ছাড়াই আইপিএফটির সিদ্ধান্তে চরম ক্ষুব্ধ বিজেপি!

দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ২৪ মার্চঃ এডিসি নির্বাচন ঘিরে এবার শাসক জোটের অন্দরেই ফাটলের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রাজ্যে ক্ষমতাসীন জোটের শরিক আইপিএফটি এডিসি নির্বাচনে কার্যত একলা চল নীতি গ্রহণ করে ইতোমধ্যেই ৯টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তা-ও আবার বিজেপি তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগেই। এই পদক্ষেপ ঘিরে বিজেপি শিবিরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, জোটে থেকে এভাবে আগাম প্রার্থী ঘোষণা কার্যত জোটের অলিখিত সমঝোতাকে অস্বীকার করার শামিল। বিজেপির একাংশ নেতৃত্বের বক্তব্য, জোটসঙ্গীর এই আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত। দলীয় অন্দরে ইতোমধ্যেই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ও আইপিএফটি জোটবদ্ধভাবে লড়াই করেছিল। সেই নির্বাচনে আইপিএফটি মাত্র একটি আসন জোলাইবাড়ি কেন্দ্র জিততে সক্ষম হয়। সেখান থেকেই নির্বাচিত হয়ে শুক্লা চরণ নোয়াতিয়া রাজ্য মন্ত্রিসভায় স্থান পান। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি বিজেপি জোট ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে মন্ত্রিসভায় আইপিএফটির প্রতিনিধিত্বও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

বিজেপির একাধিক নেতার মতে, এডিসি নির্বাচনে আইপিএফটির এই একতরফা পদক্ষেপ কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গই নয়, বরং জোটের প্রতি আস্থাহীনতারই বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে আইপিএফটির ঘনিষ্ঠ সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, এডিসি নির্বাচন তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংগঠন শক্তিশালী করতে স্বাধীনভাবে লড়াই করাই তাদের কৌশল।

এডিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি, তিপ্রা মথা এবং আইপিএফটি এই তিন পক্ষের সমীকরণ ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে তিপ্রা মথার সঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য জোট নিয়ে জল্পনার মধ্যেই আইপিএফটির এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, উপজাতি রাজনীতির ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে প্রত্যেক দলই এখন আলাদা কৌশল নিচ্ছে যার প্রভাব সরাসরি জোট রাজনীতিতে পড়ছে।

তবে এখনও পর্যন্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় বা রাজ্য নেতৃত্বের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ভাঙার কোনও ঘোষণা হয়নি। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত পরিস্থিতি বদলাতেও পারে। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় স্পষ্ট এডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে শাসক জোটের ভিতরে অনিশ্চয়তা ও চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

আইপিএফটির একতরফা প্রার্থী ঘোষণা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অপরদিকে, একঘন্টা আগে দলে যোগদান করে এডিসি নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থীপদ পাওয়া নিয়েও পদ্ম শিবিরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এধরনের ঘটনা বিশেষ করে বিজেপি দলে নজিরবিহীন। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালেই মথার দুই এমডিসি অনন্ত দেববর্মা এবং সদাগর কলই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। একঘন্টা পরেই বিজেপির প্রকাশিত প্রার্থী তালিকায় তাদের নাম দেখে দলের অন্দরেই গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। অনেকেই বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছেন না। অনেকের মতে সময় সুযোগে এরাই সবার আগে আবার দল ছেড়ে যাবে।

Dainik Digital: