সম্পাদকীয়, ২২ ফেব্রুয়ারী: নয়াদিল্লীতে সম্প্রতি এআই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। বিশ্বের বহু দেশের ফলপ্রসূ হয়েছে তা সময়ই বলবে। বলা হয়েছে ৮৬টি দেশ এবং ২টি আন্তর্জাতিক সংস্থা এই সম্মেলনে হাজির ছিল। প্রযুক্তির দুনিয়ায় এখন সবথেকে আধুনিকতম বিষয় হচ্ছে এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স। বাংলায় এর তর্জমা দাঁড়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। অর্থাৎ মানুষের সিংহভাগ কাজ এখন এআই করে নেবে। কৃত্রিমভাবে প্রযুক্তি নির্ভর উপায়ে মানুষের বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে কৃষি থেকে শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি থেকে সংবাদমাধ্যম। বিনোদন থেকে বাণিজ্য সর্বত্রই এখন এআই’র হুমকিতে আশংকায় প্রমাদ গুনছে। বলা হচ্ছে এআই নাকি গোটা বিশ্বে লক্ষ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। সেই নিরিখে ভারতে এই আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলনের ভবিষ্যৎ কি তা নিয়েও এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
এ অবস্থায় এআই এর সুফল কেন সবাই পাবে না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আমেরিকা চাইছে আমেরিকা ভিত্তিক এআই সংস্থাগুলির কাছ থেকে প্রযুক্তি কিনে অন্যান্য দেশগুলি এআই নির্ভর প্রযুক্তি ব্যবস্থা গড়ে তুলুক। আমেরিকার উপর সবাই নির্ভরশীল থাকুক তা তারা চায়। কিন্তু ভারত চায় এআই যাতে সস্তায় এবং সহজে পাওয়া যায় সেই ব্যবস্থা চালু হতে হবে।
আদতে একটা সময় এদেশ যখন কম্পিউটার এসেছিলো তখনও আওয়াজ উঠছিলো যে, কম্পিউটার আদতে কর্মসংস্থানের বারোটা বাজিয়ে ছাড়বে। এ নিয়ে বহু আন্দোলনও হয়েছে। এরপর এল মোবাইল বিপ্লব। এবার সর্বশেষ হচ্ছে এআই। অর্থাৎ গোটা ব্যবস্থাই এখন হয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তি নির্ভর। সরকার মনে করছে এআই ভিত্তিক প্রযুক্তি চালু হলে এশিয়া, আফ্রিকার মতো গরিব এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির কৃষি ব্যবস্থা, পানীয় জলের সমস্যা, জনস্বাস্থ্য বা শিক্ষার মতো ক্ষেত্রগুলি ভোল পাল্টে যেতে পারে। তাই এআই সম্মেলনে ভারত গণতান্ত্রিক ও মানব উন্নয়নে আরও বেশি ব্যবহারের পক্ষে সওয়াল করেছে। ভারত আরও চায় এআই সম্পর্কিত মানব নীতি। মানব নীতি কি? দায়বদ্ধ পরিচালনা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব। সকলের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত এবং আইনি এবং বৈধ ব্যবহার। এআই ব্যবহার হোক উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা, নয়া শিল্পের জন্য উন্মুক্ত দরজাকে সুযোগ খুলে দেওয়া।
অন্যদিকে, বিরোধীদের বক্তব্য, এআইকে কাজে লাগিয়ে মোদি সরকার সাধারণ মানুষের ওপরে নজরদারি, নির্বাচনে ভোটার তালিকায় কারচুরি, সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা মুছে দেওয়ার কাজ সহ ইন্টারেনেট, সমাজমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা মুছে দেবার কাজ ইত্যাদি করে বেড়াচ্ছে। এক্ষেত্রে সেন্সরশিপ একটি পোর্টালও তৈরি করেছে সরকার। আগামীদিনে এআই নির্ভর প্রযুক্তি চালু হলে এর অপব্যবহার বাড়তে বৈ কমবে না বলেই সবার বক্তব্য।
সাম্প্রতিক দিল্লীতে অনুষ্ঠিত এআই সামিটে যেমন বিশ্বের তাবড় তাবড় প্রযুক্তি সংস্থার শীর্ষবক্তারা হাজির থেকেছেন তেমনি হাজির ছিলেন না মাইক্রোসফটের তরফে বিল গেটস্। তার এই গরহাজিরা সবার নজর কেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এপস্টেইন ফাইলস’র সাথে তার নাম জড়িয়ে যাওয়ায় ভারত সফর তিনি এড়িয়ে গেছেন।
এতসবের পরও এআই নিয়ে মানুষের মধ্যে যে অজানা আশংকা রয়েছে তা আগে দূর করতে হবে। ভালো আর খারাপের মধ্যে প্রযুক্তির কোন অংশকে আমরা বেছে নেব এর উপর নির্ভর করছে এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ।