ইচ্ছেপূরণ নাকি কৌশলী দখল; উচ্চকক্ষে যাচ্ছেন নীতীশ শাহকে নিয়ে মনোনয়ন

দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ৫ মার্চ: জল্পনাই সত্যি হল। বিহারে নীতীশ যুগের পরিসমাপ্তি। রাজ্যসভার এনডিএ জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন নীতীশ কুমার (পাশে ছিলেন অমিত শাহ)। নির্বাচিত হওয়ার পরই তিনি ইস্তফা দেবেন। আর এই প্রথম বিহারের রাজনীতির পূর্ণাঙ্গ চালিকাশক্তি হবে বিজেপি। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পেতে চলেছে বিহার। একই সঙ্গে দুজন উপমুখ্যমন্ত্রী হবেন নতুন সরকারে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অবশ্য স্পষ্ট নয় যে, নীতীশ কুমারের পুত্র নিশান্ত কুমারই উপমুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন কিনা।

নীতীশ কুমারের এই সিদ্ধান্তের পিছনে বিজেপির নিখুঁত রাজনৈতিক কৌশল দেখতে পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল। মাত্র তিন মাস আগে যাঁকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে প্রোজেক্ট করেছিল বিজেপি, স্বাভাবিকভাবেই কোনও সন্দেহ নেই যে, নীতীশ কুমার কিংবা তাঁর দলকে বিন্দুমাত্র বুঝতে দেওয়া হয়নি কিছু। অর্থাৎ একবার নীতীশ কুমারকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রজেক্ট করার পর তাঁর ভোটব্যাঙ্ককে সম্পূর্ণ তুষ্ট করে ক্ষমতা দখল করা যাবে। আর তারপরই সময়মতো নীতীশ কুমারকে সম্মানজনক এক এটি রুট দেওয়া হবে। অর্থাৎ ২০০৫ সাল থেকে যিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী, তাঁকে কোনওভাবেই অসম্মান করা হবে না।

আর তাই নীতীশ কুমারের মুখ থেকেই বৃহস্পতিবার তাঁর এভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ও রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার পদক্ষেপের সপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করানো হয়েছে। নীতীশ কুমার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, আমার বহুকালের স্বপ্ন ছিল, সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রতিটি কক্ষের সদস্য হব। রাজ্যের বিধানসভা, বিধান পরিষদ, সংসদের লোকসভা, রাজ্যসভা। নীতীশ কুমার লোকসভার সদস্য অনেকবার হয়েছেন। রেলমন্ত্রী-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হয়েছেন। বিধানসভায় জয়ী হয়ে বিধায়ক ও মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। ২০২৫ সালের ভোটে তিনি লড়াই করেননি। বিধান পরিষদের সদস্য হিসেবে তিনি বিধায়ক ও মুখ্যমন্ত্রী। আর তাই এদিন তিনি বললেন, একমাত্র বাকি ছিল আমার রাজনৈতিক যাত্রায় রাজ্যসভার সদস্য হওয়া। এবার সেই ইচ্ছাপূরণও হওয়ার সময় এসেছে।

বিহারের রাজনীতির আমূল বদল আসতে চলেছে। জাতপাতের রাজনীতি বিহারে নতুন নয়। কিন্তু একমাত্র নীতীশ কুমার যিনি জাতপাতের সমীকরণের পাশাপাশি তৃণমূল স্তরে উন্নয়নও পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। তাই ছাত্রীদের জন্য সাইকেল প্রকল্প থেকে বিহারের রাস্তার আমূল বদলে দেওয়া, মদ্যপান নিষিদ্ধ ঘোষণা করা এবং মহিলাদের জন্য একঝাঁক প্রকল্প নিয়ে তিনি ক্রমেই একটি ব্যক্তিগত ভোটব্যাঙ্ক রচনা করতে সক্ষম হয়েছেন।

২০০৫ সাল থেকে ২০২৫ সাল, এমন কোনও জোট সরকার গঠিত হয়নি, যার মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার নন। অর্থাৎ এনডিএ হোক অথবা ইউপিএ, মুখ্যমন্ত্রী সেই নীতীশ কুমারই। লালুপ্রসাদ যাদব অস্তমিত। মামলা-মোকদ্দমা এবং বার্ধক্যজনিত সমস্যায় জর্জরিত তিনি। কিন্তু সাফল্যের সঙ্গে পুত্রের হাতে দলকে সঁপে দিতে পেরেছেন। নীতীশ কুমার সেই কাজটি করতে দেরি করে ফেলেছেন। এবার নিশান্ত কুমার রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও বিজেপি যদি একবার ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে যায়, তাহলে আর নীতীশ কুমারের দলের ক্ষমতাশালী হয়ে থাকা কতটা সম্ভব? প্রশ্ন সেটাই।

Dainik Digital: