আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্ব বাজেটে : মুখ্যমন্ত্রী!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-প্রত্যেক পরিবারের আয় বৃদ্ধি ও মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বাজেটে। রবিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর ঘোষিত বাজেট নিয়ে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গুণগত মানের শিক্ষা প্রদানের জন্য এই বাজেটে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বলেন, প্রত্যেক পরিবারের আয় বৃদ্ধি ও মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নেও যথেষ্টই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মোদ্দা কথায়, মানুষের কল্যাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাভাবনা এবারের বাজেটে প্রত্যক্ষ করা গিয়েছে।সোমবার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয় থেকে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দেশের সাধারণ বাজেট সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা বলেন, রবিবার মাঘ পূর্ণিমার দিনে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন লোকসভায় ২০২৬-২৭
অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেছেন।যা আমরা সকলেই টিভির পর্দায় দেখেছি।এ নিয়ে তিনি ৯ বারের মতো বাজেট পেশ করেছেন। প্রায় ১ ঘন্টা ২৫ মিনিট বাজেট বক্তব্য রেখেছেন তিনি। এই বাজেট সংসদে ৮০তম বাজেট। বাজেট নিয়ে উৎফুল্লিত মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে বিকশিত ভারত ২০৪৭ এর সময়সীমা দিয়েছেন,এই বাজেটে এরই প্রতিফলন ঘটেছে। বাজেটে আগামীদিনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্যও প্রতীয়মান হয়েছে। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকেও ধন্যবাদ জানান।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ক্যাপিটেল এক্সপেনডিচারের উপরও যথেষ্টই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামীদিনের কানেক্টিভিটি, লজিস্টিক ও নগরোন্নয়নেও গুরুত্ব পায় এই বাজেট। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তার ভাষণে বলেছেন, ভারতের অর্থনীতি এখন খুবই মজবুত। অর্থনীতি মজবুত রয়েছে বলেই আমাদের দেশ এখন সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাভাবনা হচ্ছে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভবপর হয়ে উঠেছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস, সবকা প্রয়াস আমরা বাজেটে প্রত্যক্ষ করতে পেরেছি। তিনি বলেন, প্রত্যেক পরিবারের আয় বৃদ্ধি ও প্রত্যেক মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নও এই বাজেটে প্রত্যক্ষ হয়েছে।এবারের বাজেটকে তিনি কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের বাজেট বলেও আখ্যায়িত করেন।আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রায়শই চারটি শ্রেণীর কথা উল্লেখ করেন। যেমন বিশেষ করে যুবা, কৃষক, গরিব ও মহিলা। আর এই চারটি শ্রেণীর উপর ভিত্তি করেই এবারের বাজেট করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষকরা যাতে তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পানসেদিক থেকেই গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। কৃষি পরিকাঠামো যাতে আর বেশি শক্তিশালী হয় সেদিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবায় যাতে সকল নাগরিককে সাশ্রয়ী মূল্যে হেল্থ কভারেজ দেওয়া যায় তাতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মেন্টাল হেলথ ও ট্রমা সেন্টারের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।এদিক থেকে ত্রিপুরায়ও প্রায় সবকটি জেলায় ট্রমা সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। বাজেটে এর উপর গুরুত্ব দেওয়ায় এখন আমরা ট্রমা সেন্টারগুলিকেও আরও শক্তিশালী করতে পারবো। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনকে আরও শক্তিশালী করতে বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়া ক্যান্সারের '১৭ টি ওষুধ এবং বিরল রোগের ওষুধ সস্তা করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গুণগত মানের শিক্ষা (স্কুল, কলেজ, টেকনিক্যাল কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) প্রদানের জন্য বাজেটে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবারের বাজেট।সড়ক, রেল, বিমান, ওয়াটার ওয়ের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যুব সমাজের দক্ষতা উন্নয়নকে শক্তিশালী করার জন্য একাধিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবহার বৃদ্ধি, দূষণ কমানোর লক্ষ্যে পদক্ষেপ সহ অন্য সব ক্ষেত্রেই গুরুত্ব দেওয়া হয় এই বাজেটে। এছাড়াও মধ্যবিত্তদের জন্য কর ব্যবস্থায় অনেক ছাড় রাখা হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এবারের বাজেট মূল তিনটি স্তম্ভের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথমে রয়েছে সমাজের প্রান্তিক স্তর পর্যন্ত উন্নয়ন, দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং তৃতীয় ধাপে রয়েছে সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস, সবকা প্রয়াস। একই সাথে মোট ৬টি বিষয়ের উপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এছাড়াও আরও একাধিক বিষয়ে বাজেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্পর্কে সাংবাদিক সম্মেলনে অবহিত করেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা, ইন্টেলেক্টচুয়াল সেলের কনভেনর ড. জহরলাল সাহা, সিপাহিজলা জেলার জেলা সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত, মিডিয়া ইনচার্জ সুনীত সরকার সহ অন্যরা।
Dainik Digital: