আজ বাংলাদেশের ভোট, হাসিনার ভোটাররা বিএনপিমুখী হয়েছেন

অনলাইন ডেস্ক, ১১ ফেব্রুয়ারী: বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ভোট। আওয়ামি লীগ বিহীন নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি এবং জামায়েত ইসলামির। দেশে সব কয়টি প্রাক নির্বাচনি সমীক্ষায় বিএনপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। আবার আওয়ামি লীগের ভোটাররাও ঝুঁকছে বিএনপির দিকেই। তবে আওয়ামির কর্মী সমর্থকরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে অন্য দলেও রয়েছেন। কিন্তু সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায় আওয়ামি লীগের বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাতের তুলনায় আওয়ামির ভোটাররা বিএনপিতেই স্বচ্ছন্দ।
বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা থেকে ভোট গ্রহণ। ভোট কেন্দ্র পাহারা ও ভীতসন্ত্রস্ত ভোটারদের অভয় দিতে বুধবার রাতেই সেনাবাহিনী দেশজুড়ে সক্রিয় ভূমিকায় পথে নেমে গেছে।

সকাল সাতটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত ২৯৯ আসনে একটানা ভোট গ্রহণ চলবে। এ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ সহ পঞ্চাশটি দল অংশ নিচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৫ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৩জন।
এবার নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বিএনপি ও মৌলবাদী দল জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে। তবে ইতিমধ্যে পরিচালিত সব জরিপে নির্বাচনে বিএনপি বেশি আসন পাবে বলে জানানো হয়েছে। তবে জামায়াত ছাড়া অন্য কোনো দল ১০-১৫ টি আসন পাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলে নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন। কারণ বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া অন্য দলগুলো কোনো জনভিত্তি নেই।
২০২৪ সালের পাঁচ আগস্টে গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতা থেকে হাসিনার ভোটাররা বিএনপিমুখী হয়েছেন
বিদায়ের পর ইউনুস সরকার খুব শিগগিরই নির্বাচন আয়োজন করবে বলেও দীর্ঘ আঠারো মাস পর নির্বাচন দিয়েছে। এজন্য দেশের সাধারণ মানুষ ইউনুস সরকারের উপর ক্ষুব্ধ।

আজ অনুষ্ঠিতব্য ভোট নিয়ে নানা শঙ্কা থাকলেও নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি নিয়েছে। ভোটাররাও প্রস্তুত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন বলছে, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার বেশিসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে। ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির বিষয়ে আশাবাদ ইসির। বলছে, ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা ছেড়ে মানুষের গ্রামে যাওয়ার ঢল দেখে ভালো টার্নআউটের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কমিশন সব রাজনৈতিক দল ও সমর্থকদের সুন্দর ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে ভোট উৎসব সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী সহ পঞ্চাশটি দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বে বড় দুই জোট এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

এবার নির্বাচনে পঞ্চাশটি রাজনৈতিক দল, স্বতন্ত্র প্রার্থী সহ দুই হাজার আটাশজন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র ২৭৩জন, দলীয় ১ হাজার ৭৫৫জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩জন। সারা দেশে মোট ভোটারসংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০জন। হিজড়া ১ হাজার ২৩২ জন। মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ ২১ হাজার ২৭৩ কেন্দ্র। ঝুঁকিপূর্ণ ২১ হাজার ৫০৬ কেন্দ্র। ২৯৯টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটের গণনা হবে। প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে রয়েছে ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। এছাড়া প্রায় ৯ হাজার ৭০০ জন সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে বিদেশি সাংবাদিক রয়েছেন প্রায় ১৫৬জন। নির্বাচনের নিরাপত্তায় সারা দেশে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৯ লক্ষ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭জন বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট।

বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কিছু ক্ষেত্রে বিএনপির অবস্থানে খুশি আওয়ামি সমর্থক ভোটারদের একটি অংশ তাদের প্রতি তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। আওয়ামি লীগের নেতারা মনে করছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামি লীগ লাভবান হবে এবং তারা দ্রুত রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন। অন্যদিকে, আওয়ামি লীগসরকারের আমলে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সরকার পতনের ঠিক আগে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়। জামায়াতকে শত্রু হিসাবেই বিবেচনা করে আওয়ামি লীগ।

Dainik Digital: