দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ১৭ ফেব্রুয়ারী: বাংলাদেশে নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলতেই আগরতলা পিএসকে তথা পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্রে নতুন পাসপোর্ট ও নবীকরণের আবেদনে হঠাৎ ভিড় বেড়েছে। গত প্রায় দেড় বছর ধরে যে আবেদন সংখ্যা নিম্নমুখী ছিল তা এখন দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী বলে পিএসকে সূত্রে জানা গেছে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেখানকার পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ায় নিরাপত্তার আশঙ্কায় রাজ্যের বহু মানুষ বাংলাদেশে যাতায়াত থেকে বিরত থাকেন। ফলে অনেকের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তা নবীকরণের আগ্রহ দেখা যায়নি। পাশাপাশি, ওপারে যাতায়াতের অনুকূল পরিস্থিতি ফিরবে কি না এই অনিশ্চয়তায় অনেকেই আবেদন করার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেন। এর প্রভাব পড়ে পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্রে। যেখানে আবেদনকারীর সংখ্যা এক সময় অনেকটাই কমে যায়।
ত্রিপুরার বহু মানুষের আত্মীয়স্বজন বাংলাদেশে থাকায় অতীতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। ব্যবসা, ভ্রমণ কিংবা আত্মীয়তার টানে প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক মানুষ সীমান্ত পেরোতেন। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে আগরতলা-কলকাতা বাস পরিষেবাতেও পাসপোর্ট-ভিসা প্রয়োজন হতো। যা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, বাংলাদেশে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ এবং নতুন সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক জোরদারের ঘোষণার পর রাজ্যের বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। ফলে পাসপোর্টের জন্য নতুন করে আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ হওয়ার পর দীর্ঘদিন রাজ্যবাসীর সুবিধার্থে সচিবালয় থেকে ইন্দো-বাংলা বিশেষ পাসপোর্ট ইস্যু করা হতো। ২০১২ সালের পর কেন্দ্রীয় সরকার সেই ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয় এবং জানানো হয় পাসপোর্ট ইস্যু হবে কেবল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের মাধ্যমে। সেই সময়ই ২০১৩ সালের ৯ জুলাই আগরতলায় পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্র চালু করা হয়। যা বর্তমানে কলকাতা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের অধীন। পিএসকে সূত্রে জানা গেছে, এই কেন্দ্রের দৈনিক আবেদন প্রক্রিয়াকরণের ১০০ থেকে ১২০টি। যেমন আজ ১২০ জন আবেদনকারীকে স্লট দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের মধ্যে সিপাহিজলা জেলার বাসিন্দার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। পাসপোর্টের জন্য বর্তমানে অনলাইনে আবেদন করতে হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের স্লট করে আবেদনকারীকে সশরীরে পিএসকে-তে উপস্থিত হতে হয়। বর্তমানে দুই-এক দিনের মধ্যেই স্লট পাওয়া গেলেও আবেদনকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে স্লট পেতে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি এমনই থাকলে আগামী দিনে পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রে চাপ আরও বাড়বে বলেই ধারণা প্রশাসনিক মহলের।