অর্থ আত্মসাতের ভয়াবহ চিত্র!!’ব্রু’ পুনর্বাসনের নামে গড়ে উঠেছে নতুন শোষণ ব্যবস্থা!!

অনলাইন প্রতিনিধি :- রিয়াং পুনর্বাসনের নামে উত্তর ত্রিপুরার কাঞ্চনপুর মহকুমার খাসনামপাড়ায় গড়ে উঠেছে এক ভয়াবহ সমান্তরাল শাসনব্যবস্থা এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে গোটা এলাকা থেকে। এমনকী প্রশাসনিক মহলের একাংশের বক্তব্য এই পুনর্বাসন গ্রামে কার্যত সরকারী আইনকানুনের কোনও অস্তিত্ব নেই। চলছে কিছু স্বঘোষিত নেতার একচ্ছত্র দাপট। মিজোরাম থেকে বিতাড়িত হয়ে আসা রিয়াংদের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে স্থায়ী পুনর্বাসন দেওয়া হলেও খাসনামপাড়ার বাস্তব চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একদিকে সাধারণ পুনর্বাসন প্রাপ্ত রিয়াং পরিবারগুলি আজও পানীয় জল, রাস্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মৌলিক সমস্যায় জর্জরিত অন্য দিকে কয়েকজন তথাকথিত রিয়াং নেতা আয়েশি জীবনে মত্ত।অভিযোগ এই নেতাদের কেউ কেউ দোতলা পাকা বাড়িতে বসবাস করছে। তাদের সন্তানরা বহি:রাজ্যের নামি স্কুলে পড়াশোনা করছে। অথচ যাদের উন্নয়নের কথা বলে অর্থ তোলা হচ্ছে সেই সাধারণ মানুষই রয়ে যাচ্ছে বঞ্চিত।সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিযোগ খাসনামপাড়ায় সরকারী কাজ করতে গেলে ঠিকাদার ও ইল্লিমেন্টিং কাজের দায়িত্ব প্রাপ্ত বাস্তুকারদের বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হচ্ছে নির্দিষ্ট 'লেভি'।মোট বিলের অন্তত দশ শতাংশ টাকা না দিলে কাজ আটকে দেওয়া হচ্ছে।অভিযোগ দিল্লী কানেকশনের দোহাই দিয়ে এক-দু'জন উপজাতি আরএসএস ঘনিষ্ঠ নেতা নিজেদের অঘোষিত নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা নিজেদের জনজাতির রক্ষাকর্তা পরিচয় দিলেও বাস্তবে চলছে প্রকাশ্য তোলা বাজি। আরও গুরুতর অভিযোগ এক ইংরেজি-হিন্দি ভাষাভাষী নেতা কথায় কথায় উত্তর ত্রিপুরার জেলাশাসক চাঁদনী চন্দ্রনের নাম ব্যবহার করে ঠিকাদারদের ভয় দেখাচ্ছে। জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আদায় করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। কাঞ্চনপুর মহকুমার দক্ষিণাঞ্চলে খানটলাং এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নির্মাণকে ঘিরে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ 'উপজাতি উন্নয়ন'- এর নামে ওই রাস্তার মোট বিলের দশ শতাংশ দাবি করা হয়েছে। শুধু রাস্তা নয় খাসনামপাড়ায় পুনর্বাসিত শিশুদের জন্য নির্মীয়মান একাধিক অঙ্গনাওয়াড়ি কেন্দ্রের কাজ থেকেও একই হারে টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। উন্নয়নের নামে এ যেন সংঘটিত লুটের স্পষ্ট ছবি। এই ঘটনাকে কেউই আর বিচ্ছিন্ন বলে মানতে নারাজ। অভিযোগ উঠেছে এডিসির এক নির্বাহী সদস্য ও কয়েকজন প্রভাবশালী রিয়াং নেতার আশীর্বাদেই কাঞ্চনপুর মহকুমা জুড়ে সরকারী দপ্তরগুলিতে চলছে প্রকাশ্য লোপাট। কাগজে-কলমে উন্নয়নের ঢাক পেটানো হলেও বাস্তবে খাসনামপাড়া আজ দুর্নীতির আঁতুড়ঘর। সরকারী অর্থ আত্মসাতের এই ভয়াবহ চিত্র দেখে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছে- তবে কি পুনর্বাসনের নামে তৈরি হয়েছে নতুন শোষণ ব্যবস্থা?প্রশাসনের নীরবতা ও কঠোর পদক্ষেপের অভাব এই অভিযোগকে আরও ঘনীভূত করছে। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে রিয়াং পুনর্বাসনের এই কলঙ্ক ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নেবে এমনটাই আশঙ্কা সচেতন মহলের।
Dainik Digital: