দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ১৬ ফেব্রুয়ারী: রাজ্যে নজিরবিহীন ঘটনা। একজন অবসরপ্রাপ্ত গ্রেড ওয়ান জুডিশিয়াল অফিসার তথা ভোক্তা আদালতের বিচারককে তার পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। এই ধরনের নজির রাজ্যে আর নেই। টিপিএসসির চেয়ারম্যান কুশ কুমার শর্মার বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনার ঝড় উঠায় তিনি বাধ্য হয়ে নিজে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা করেন। যদিও এর আগে আর্থিক নয়ছয় করে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম। আইনজীবীদের টানা প্রতিবাদ ও আন্দোলনের জেরে পশ্চিম জেলা ভোক্তা আদালতের বিচারক তথা সভাপতিকে অপসারণ করা হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারী এই নির্দেশ জারি করেছেন রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত সচিব সুমিত লোধ। নির্দেশটি সোমবার প্রকাশ্যে এসেছে। খাদ্য দপ্তরের অভ্যন্তরীণ তদন্তে বিচারক গৌতম সরকারের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পদমর্যাদার অপব্যবহারের অভিযোগ
কর্মচারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গৌতম সরকারের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সরকার। এরপর ভোক্তা সুরক্ষা আইন অনুযায়ী গঠিত নিয়ম, ২০২০-এর ৯ নম্বর ধারার অধীনে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হয়। তদন্ত শেষে রাজ্য কমিশন প্রতিটি অভিযোগের পৃথক বিশ্লেষণ ও সংক্রান্ত নিয়ম, ২০২০-এর ৮ নম্বর ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে সরকার তাকে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা ভোক্তা বিবাদ নিষ্পত্তি কমিশন-এর সভাপতির পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণের নির্দেশ জারি করেছেন অতিরিক্ত সচিব স্ত্রী লোখ। রাজ্যে এই ধরনের নজির প্রথম তৈরি হলো। তবে ভোক্তা আদালতে পরবর্তী সভাপতি বা বিচারক কে হবেন তা ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা ভোক্তা আদালতের সভাপতির পদ থেকে তাকে অপসারণ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পদচ্যুত করা হয়েছে। অতিরিক্ত সচিবের নির্দেশে বলা হয়েছে, একাধিক আইনজীবী ও যুক্তিসহ তাদের রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেয়। সরকার তদন্ত রিপোর্ট, অভিযুক্তের লিখিত জবান ও সমস্ত নথি পরীক্ষা করে দেখে। এরপরই গৌতম সরকারকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ সত্য প্রমাণিত হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে। ভোক্তা সুরক্ষা উল্লেখ্য, অভিযোগ ছিল বিচারক গৌতম সরকার প্রত্যেকদিন আদালতে মদ্যপ অবস্থায় আসতেন। এজলাশেও মদ্যপ অবস্থায় থাকতেন। তিনি আইনজীবী সহ আদালত কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত খারাপ ব্যবহার করতেন। এইসব অভিযোগের বিস্ফোরণ হয় ভোক্তা আদালতেই। আইনজীবীদের উপস্থিতিতে ভোক্তা আদালত কর্মীরা সরকারের কক্ষে গিয়ে তার ব্যাগে মদ আছে কিনা তল্লাশি করতে যান। যদিও গৌতম সরকার এই ঘটনায় এনসিসি থানায় একটি মামলা করেছিলেন। আইনজীবীদের উদ্দেশেই তিনি মামলা করেন। ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশনে বিচারক গৌতম সরকারের অপসারণের দাবিতে একাধিক বৈঠক হয়। এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর কাছে গৌতম সরকারকে অপসারণের দাবি করা হয়েছিল। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আদালত বয়কট ঘোষণা করেছিলেন আইনজীবীরা। ।। শেষ পর্যন্ত তাকে অপসারণ করতে হয়েছে।